শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

নোটিস :
কিছুদিনের জন্য আপনার ঘরে থাকাটাই হবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ - আসুন আমরা সবাই ঘরে থাকি সুস্থ থাকি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ি- ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খান - শিবপুর উপজেলা
শিরোনাম :
শিবপুর সাধারচর ইউনিয়নের মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান- জাহিদুল হক দিপু পাঁচদোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি- বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহিদ সরকারের ব্যাপক গণসংযোগ শিবপুরে ৩৪নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ শিবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শিবপুর সাধারচর ইউনিয়নের জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই জাহিদুল হক দিপু জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহিদ সরকার মসজিদে বক্তব্য দিয়ে ঢাকা রেঞ্জ সেরা ওসি সওগাতুল শিবপুর উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঘোড়াশাল নৌকা মার্কার পদপ্রার্থী পৌর মেয়র শরিফুল হক শরিফের বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

করোনা যুদ্ধে মানবিক ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খানের সাহসী পথ চলা!

 

ডালিম খান /নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় করোনা সংক্রমণ আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চলছে কঠোর লকডাউন।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাবিরুল ইসলাম খান গলাফাটিয়ে সচেতন করাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নানা নির্দেশনার কথা বললেও মনে হচ্ছে অনেকের কানেই ঠুকছে না করোনা থেকে বাঁচার জন্য সরকারের এ সকল নির্দেশনাগুলো। এতো বুঝানোর পরও গ্রামের রাস্তায় মানুষ চলাচল করছে ও ছোট খাটো যানবাহনগুলো চালাচ্ছে। বুঝানোই যাচ্ছে না কাগজে কলমে পড়া লেখা করা মানুষগুলোসহ গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোকে।
মানুষ যদি করোনার ক্ষতিকারক দিকগুলো মন থেকে আমলে নিতে পারতো তাহলে সরকারের নিদের্শ মানা ও জনসচেতনতাকে মহাঔষধ হিসেবে গ্রহন করত। আর এর ভয়ে মানুষ ঘরের জানালা পর্যন্ত খোলা রাখতো না।
বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে বলেই অনেকেই বিনা প্রয়োজনে অযথা বাহিরে ঘুরাফেরা করছে এটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না।করোনা মহামারীর বিষ দাঁতের কামড় থেকে রক্ষা করতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে একযোগে কাজ করছে। তবুও কারো হুশ হচ্ছেনা।শিবপুর উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে আক্রান্ত পরিবারগুলোকে স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে লকডাউন করেছেন। আক্রান্ত পরিবারগুলোকে সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং আত্নবিশ্বাসী করে তুলছেন স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা।স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশবৃন্দের সাথে চলমান অবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে সকলকে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধও করা হচ্ছে শিবপুর উপজেলার প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তরফ থেকে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় জরিমানা করা হচ্ছে।স্থানীয় এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গঠিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম বেগবান করাসহ নানাভাবে জরুরি মতবিনিময় করছেন ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খান। সকল ইউপি মেম্বারকে ওয়ার্ড কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রাখার জন্য ও আক্রান্তের বাড়ি লকডাউন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে শিবপুর উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। সেই সাথে নিরাপত্তা জোরদার করছেন থানা পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সহ আক্রান্ত এলাকাগুলোতে আসাযাওয়া না করার বিষয়ে সকলকে সচেতন করতেও বলা হচ্ছে।দিনে দিনে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয়টি হলো আমাদের হোটেল রেস্তোরাঁ চায়ের দোকানে হরেক রকম মানুষ আসে। এমনকি বিদেশে ফেরৎ ব্যক্তিও কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভেঙে সন্ধ্যায় চা খেতে আসতে পারে। তার মাঝেও জীবাণু থাকতে পারে। যদি এসব খোলা থাকে তাহলে মানুষ একত্রিত হবেই। কতক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখা যাবে? যেখানে জরিমানার ভয় দেখিয়েও কোয়ারান্টাইনে রাখা যায়না। আর এরাতো মুক্ত! একই কাপে, গ্লাসে, প্লেটে কত জনে খাচ্ছেন। একই চেয়ারে, বেঞ্চে কত জন পর পর বসছেন। এতে যে কি ভয়ানক ঝুঁকি আছে কল্পনাও করতে পারবেননা! এ ভাইরাস স্পর্শের মাধ্যমে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই জন্য শিবপুর উপজেলাসহ সব জায়াগায় খাওয়ার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং চায়ের স্টলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লাখপুর, ঐতিহাসিক চিনাদী বিল পর্যটন পার্ক বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খান। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার অভিযোগে বাজারে বাজারে অভিযানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খান।অনেক দোকানি বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দোকানের ভেতরে পন্য বিক্রি করছেন,এ ধরণের মানসিকতা হতে বিরত থাকুন।অনেকেই সব বুঝেও অবুঝ হয়ে প্রশাসনের সাথে বেহায়ার মতো লুকোচুরি খেলছে। কঠোরতা থেকে যদি ভাল কিছু হয়, তবে কঠোরতাই ভাল। সেই পথেই হাঁটছেন করোনা মোকাবেলায় সন্মুখ সারির সাহসী যোদ্ধা ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খান । সঙ্গে কাজ করছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি শাহরুখ খান, মানবিক ইউএনও রাতে উপজেলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করাকালে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করেছেন আর বলছেন, আপনারা যদি দিনের বেলা কোনমতে বিধি নিষেধ সহ্য করে সন্ধ্যা বেলা চায়ের দোকানে বা পাড়ার মোড়ে মোড়ে দল বেঁধে এসে পরিবেশটা চায়ের চেয়েও গরম করে ফেলেন তাহলে কি লাভ? এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কত বেশি বাড়ে আন্দাজ করতে পারেন কি? রাতের আড্ডায় যাদের দেখা যাচ্ছে তারা প্রায় শতভাগ লোকের মুখেই মাস্ক নেই! অন্ধকার হয়ে এলে মুখের মাস্কগুলো হারিয়ে যায়! দোকান খোলা আর দোকানের সামনে বসেই আড্ডা। আশেপাশে বাঁশের বেঞ্চগুলোতে অনেক সমাগম। ‘মাস্ক’ সে তো বহুদূরের বিষয়! দু:খের সাথে এমন মন্তব্যও করেন ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খান। করোনা পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টায় বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে ইউএনও কঠোর হয়েছেন। হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে জনসাধারণকে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করছেন তিনি।তিনি সবাইকে কিছুদিনের জন্য ঘরে থাকার অনুরোধ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ নরসিংদী নিউজ ২৪
কারিগরি সহযোগীতায় : ইজি থিমস| ইজি আইটি সল্যুশন