বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

নোটিস :
নরসিংদীনিউজ২৪ .কম এর পক্ষ থেকে নরসিংদিবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা
শিরোনাম :
নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু তালেব ও রবিউল ইসলাম রবি গ্রেফতার কিছুদিনের জন্য আপনার এই ঘরে থাকাটাই হবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ  ইউএনও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাহফুজুল হক টিপু শিবপুরে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ০৮ টি মামলায় ২৭০০/টাকা অর্থদণ্ড প্রদান শিবপুরে করোনা ভাইরাস প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শিবপুর উপজেলায় মোবাইল কোর্ট অভিযানে ভ্রমণ নৌকা মাঝিসহ ৭১ জন অর্থদন্ড প্রদান শিবপুরে অবৈধ ভাবে নদী খননের কারণে ভেঙে যাচ্ছে লাখো মানুষের কবরস্থান সহ গাইড ওয়াল শিবপুরে লকডাউন বাস্তবায়নে ইউএনও কাবিরুল ইসলাম খানের তৎপরতা অব্যাহত শিবপুর পাহাড়িয়া নদী হতে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার শিবপুরে মসজিদে উন্নয়নে টাইলস অনুদান করলেন সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর করোনা প্রতিরোধী স্প্রে আবিষ্কার

নিউজ ডেস্ক :: করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এরকম একটি জীবাণুনাশক স্প্রে আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণ ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। তার আবিষ্কৃত ‘ভলটিক স্প্রে’ সব ধরনের করোনাভাইরাস, ইবোলা ভাইরাস, এভিয়েন ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, সার্স, এইচআইভি-বি এবং অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন তিনি। এ খবর বিবিসি বাংলা’র।

ছাব্বিশ বছর বয়সী বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম দেড় বছর ধরে গবেষণার পর ভলটিক নামের এই জীবাণুনাশক তৈরি করেন। তা যে কোনো বস্তুর সারফেসে স্প্রে করা হলে সেটি দুই সপ্তাহের জন্য জীবাণুমুক্ত থাকবে।

কোভিড মহামারি মোকাবেলায় এই উদ্ভাবনকে বড় ধরনের আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা এনএইচএসসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটিকে অনুমোদন দিয়েছে।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর সাদিয়া খানম তার পিএইচডি গবেষণা স্থগিত রেখে উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের চেশায়ারে তার পিতার রেস্তোরাঁয় এই ভাইরাসটি নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা শুরু করেন। গবেষণায় এই ভাইরাসটিকে ধ্বংস করার জন্য তিনি নানা রকমের সমীকরণের সন্ধান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে এরকম একটি কার্যকরী ইকুয়েশন উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘ভলটিক’ যা সংক্রামক রোগজীবাণু নাশের একটি প্রক্রিয়া। এটি উচ্চমানের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে একটি মেশিন দিয়ে এই তরল স্প্রে করতে হয়।

ভলটিক কী
সাদিয়া খানম বলেন, ‘জীবাণু কোনো কিছুর সংস্পর্শে আসলে তখন তাকে ধ্বংস করতে সক্ষম ‘ভলটিক’। অর্থাৎ কোনো কিছুর পৃষ্ঠ বা সারফেসের ওপর যদি কোনো ভাইরাস থাকে, এর সাহায্যে তাকে সাথে সাথেই মেরে ফেলা যায়।’

এটি চামড়া থেকে শুরু করে কাঠ, লোহা থেকে কাপড়- সব ধরনের সারফেসের ওপর কাজ করে বলে গবেষণায় তিনি দেখতে পেয়েছেন।

‘এই প্রক্রিয়ায় কোনো কিছুর সারফেসের ওপর একটি কোভ্যালেন্ট বন্ড তৈরি হয়, যা সেখানে চৌদ্দ দিনের জন্য একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করে। এই বন্ড খুবই শক্তিশালী, কোনো কিছুই এটিকে ভাঙতে পারে না। এভাবে এটি টানা দুই সপ্তাহের জন্য যেকোনো জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি

যে কোন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, করোনাভাইরাস, ইবোলা ভাইরাস, এইচআইভি-বি ইত্যাদি জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম ‘ভলটিক’।

যেভাবে কাজ করে
বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম জানান, ‘আমি এমন একটা জিনিস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি যা যে কোনো জীবাণুকে ধ্বংস করতে পারে, সেই সঙ্গে ধ্বংস করতে পারে জীবাণুর ডিএনএ। এই ভলটিক স্প্রে খুবই উচ্চ-চাপের মধ্যে কাজ করে। নানা ধরনের প্রয়োগের ফলে এর বিভিন্ন রকমের উপকারিতা আছে, বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক উপকারিতা ‘

বর্তমানে বাজারে যেসব জীবাণুনাশক পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই খুব বেশি সময় ধরে সুরক্ষা দিতে পারে না। কিন্তু সাদিয়া খানম দাবি করছেন যে, তার এই ভলটিক স্প্রে অন্যান্য জীবাণুনাশকের চেয়ে আলাদা এবং একবার স্প্রে করার পর সেটি চৌদ্দ দিন কার্যকর থাকে।

‘বাজারে যতো ধরনের জীবাণুনাশক আছে আমি সেগুলোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে গবেষণা করেছি। কারণ আমি এমন এটা জিনিস তৈরি করতে চেয়েছি যাতে সবকিছুর উত্তর পাওয়া যায় এবং বর্তমানে যেসব জীবাণুনাশক পাওয়া যায় সেগুলোর সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারে’ বলে জানান বিজ্ঞানী সাদিয়া।

তিনি বলেন, অনেক জীবাণুনাশক বিষাক্ত। কিন্তু তার ভলটিক স্প্রে যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিকর না হয় কিম্বা বর্তমানে ও ভবিষ্যতে যাতে এর কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয় সে বিষয়ে তাকে সতর্ক থাকতে হয়েছে।

‘ আমি হাসপাতালগুলোকে সাহায্য করতে চেয়েছি। এমন জিনিস তৈরি করতে চেয়েছি যা এই কঠিন সময়ে তাদের সাহায্য করবে। যা বিছানা, কম্বল, পর্দা, বালিশ, কুশন, সোফা ইত্যাদি নরম জিনিসের ওপরও কাজ করবে। অনেক জীবাণুনাশক আছে যেগুলো বিষাক্ত এবং নরম জিনিসের ওপর ব্যবহার করা যায় না। ধাতব পদার্থ ও ধাতব নয়- এমন জিনিসেও কাজ করবে ভলটিক’ জানান সাদিয়া।

ভ্যারিয়্যান্টের বিরুদ্ধে কাজ করে
বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম দাবি করছেন তার আবিষ্কৃত ভলটিক সব ধরনের করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম। তিনি বলেন, ভলটিক সব ধরনের ভ্যারিয়্যান্টের বিরুদ্ধে কাজ করে। কারণ আমি এই ভাইরাসের আসল স্ট্রেইন নিয়ে কাজ করেছি। যেহেতু আমি করোনাভাইরাসের আসল জিনিসটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়েছি, তাই এটি যে কোন ধরনের করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘যখনই এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি একটি ঘরে প্রবেশ করে, তখন সেই ঘরের ভেতরে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। সারাক্ষণ ঘরের সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন। কিন্তু এই ভলটিক স্প্রে দিয়ে ঘরটিকে সারাক্ষণই জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব। কোনো একটি ঘর ভলটিক দিয়ে পরিষ্কার করা হলে ওই ঘরটি ১৪ দিনের জন্য সুরক্ষিত থাকবে।’

তার আবিষ্কৃত ভলটিক স্প্রে সব ধরনের করোনাভাইরাস, ইবোলা ভাইরাস, এভিয়েন ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, সার্স, এইচআইভি বি এবং অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

যেভাবে শুরু
ব্রিটেনে করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পরেই সাদিয়া খানম এনিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন। এর আগে তিনি আলঝাইমার্স রোগের ওপর পিএইচডি গবেষণা শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মহামারি শুরু হলে তিনি সেসব বাদ দিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলার উপায় খুঁজতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর তার পিতার রেস্তোরাঁ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং তখন থেকেই তিনি এর প্রতিকার খুঁজতে নেমে পড়েন।

পিতার রেস্তোরাঁতেও ভলটিক স্প্রে ব্যবহার করে তিনি আংশিক গবেষণা চালিয়েছেন। এই রেস্তোরাঁকে তিনি ব্যবহার করেছেন গবেষণার একটি কেস স্টাডি হিসেবে। সেখানে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান এবং রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন জিনিসের সারফেসের ওপর তার উদ্ভাবিত জীবাণুনাশক স্প্রে করে সফল হন।

এএইচ/

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ নরসিংদী নিউজ ২৪
কারিগরি সহযোগীতায় : ইজি থিমস| ইজি আইটি সল্যুশন